শিলিগুড়ি- শিলিগুড়িতে রিচা ঘোষের নামে ক্রিকেট স্টেডিয়াম তৈরির ঘোষণা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার উত্তরকন্যায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, শিলিগুড়়ি চাঁদমণিতে একটি স্টেডিয়াম তৈরি করা হবে। সেজন্য ২৭ একর জমি বরাদ্দ করা হচ্ছে।
সেই স্টেডিয়ামের নামকরণ রিচার নামে করা হচ্ছে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর সেই ঘোষণার পরই আবেগে ভেসে গিয়ে কেঁদে ফেলেছেন রিচার বাবা। বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় তারকার বাবা জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী যে ঘোষণা করেছেন, সেটার প্রতিক্রিয়া দেওয়ার কোনও ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না। তাঁরা অনেকদিন ধরে যে স্বপ্ন দেখছিলেন, সেটা অবশেষে পূরণ হতে চলেছে। আর সেই ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ফলে নয়া প্রজন্মের রিচারাও লাভবান হবেন বলে আশাপ্রকাশ করেছেন ভারতীয় তারকার বাবা।
রিচার সাফল্যে গর্বিত দেশ, গর্বিত বাংলা। শনিবার ইডেন গার্ডেনে এক জমকালো অনুষ্ঠানে বিশ্বকাপজয়ী উইকেটরক্ষক-ব্যাটার রিচা ঘোষকে সংবর্ধনা জানানো হল সিএবি এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে। এদিন মমত সরকার তাঁকে বঙ্গভূষণ পুরস্কারে ভূষিত করে। পাশাপাশি ডেপুটি পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট (DSP) হিসাবে নিযুক্ত করা হয় রিচাকে।
শুধু তাই নয়, পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটি সোনার চেইন উপহার দেয় বিশ্বজয়ী তারকাকে। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল, বিশ্বকাপ ফাইনালে রানের জন্য রিচাকে ৩৪ লাখ টাকা পুরস্কার তুলে দেয়। রিচা বাংলার প্রথম বিশ্বকাপ বিজয়ী ক্রিকেটার। এর আগে বিশ্বকাপ জয়ের দোরগোড়ায় এসে ব্য়র্থ হয়েছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ২০০৩ সালে বিশ্বকাপ ফাইনালে অজিবাহিনীর হাতে পরাজিত হয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। পরবর্তীতে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের কিংবদন্তি , চাকদা এক্সপ্রেস ঝুলন গোস্বামীও খুব কাছে পৌঁছলেও কাপ ছুঁতে পারেননি। রিচা পেরেছেন। প্রথম বাঙালি ক্রিকেটার হিসাবে বিশ্বকাপ উঠল তাঁর হাতে।
বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রোটিয়া বধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন রিচা। ৭ নম্বরে ব্যাটিং করে, তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ফাইনালে মাত্র ২৪ বলে তিনটি চার এবং দুটি ছক্কা দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৩৪ রান করেছিলেন, যা ভারতকে চ্যালেঞ্জিং ২৯৮ রান করতে সহায়তা করেছিল। লরা উলভার্টের শতরানে ভর করেও মাত্র ২৪৬ রানেই গুটিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস।
পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে, রিচা আটটি ইনিংসে মোট ২৩৫ রান করেছিলেন , তাঁর গড় রান ৩৯.১৬, যা ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ।
