নয়াদিল্লি- বাংলায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় তিনি বলেন, “এটা আমার ব্যক্তিগত লড়াই নয়, এটা মানুষের লড়াই। বিচারের আশায় কাঁদছি।” নিজের উদ্বেগ ও অভিযোগ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার জন্য সময় চান তিনি। আদালত তাঁর বক্তব্য শোনার অনুমতি দেয়।
শুনানিতে এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে নামের বানান ও অমিলের কারণে যে নোটিস পাঠানো হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় প্রধান বিচারপতির সামনে।
নাম ও বানান সংক্রান্ত বিতর্কে আদালতেও আলোচনা তীব্র হয়। শ্যাম দিবান দাবি করেন, প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষ এই ধরনের নোটিস পেয়েছেন। বিচারপতি বাগচি পর্যবেক্ষণে বলেন, বাংলায় উচ্চারণের পার্থক্যের কারণেই নামের বানানে ভিন্নতা দেখা যায়। প্রধান বিচারপতি জানান, এই বিষয়টি নিয়ে শুনানি এখনও চলছে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনে কয়েকটি নতুন দিক উঠে এসেছে।
শুনানির সময় বক্তব্য রাখার অনুমতি চেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে নাম বাদ দেওয়া। তাঁর আরও দাবি, একাধিক বুথ লেভেল অফিসার (BLO) এসআইআরের কারণে মারা গিয়েছেন, এমনকি কয়েকজন আত্মহত্যাও করেছেন।
এদিন আদালতে শুনানির সময় মুখ্যমন্ত্রী আবেগঘন কণ্ঠে আরও বলেন, “আমরা কোথাও ন্যায়বিচার পাচ্ছি না। নির্বাচন কমিশনকে ছ’বার চিঠি লিখে সব বিস্তারিত জানানো হয়েছে। আমি খুব সাধারণ পরিবার থেকে এসেছি। ন্যায়বিচারের জন্য আমি কাঁদছি। এটা কোনও দলের হয়ে লড়াই নয়।”
উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ আদালতে সওয়াল করেছিলেন ৬ জুলাই ১৯৯৭ সালে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যোগেশ চন্দ্র চৌধুরী আইন কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করা মমতা রাজনীতিতে আসার আগে কিছুদিন আইনি পেশায় যুক্ত ছিলেন।
