এসআইআর-এর চক্কর! ভোটার তালিকা থেকে বাদ খোদ মিরজাফরের ১৫ তম বংশধরদের নাম!

কলকাতা- পলাশির সেই ঐতিহাসিক যুদ্ধ। প্রাণপণ লড়েও নবাব সিরাজ-উদদৌলা হেরে গিয়েছিলেন। তাঁরই সেনাপতি মিরজাফর এরপর ব্রিটিশদের সহায়তায় বাংলার মসনদে বসেন।

পরবর্তীতে এই পরিবার বাংলার বুকে দাপটে নবাবি শাসন চালায়। ‘ছোটে নবাব’ সৈয়দ মহম্মদ রেজা আলি মির্জা এই বংশেরই ১৫তম পুরুষ।

এসআইআরের চক্করে ছোটে নবাবের নিজের পরিবার তো বটেই আত্মীয়স্বজন মিলে অনেকেরই নাম বাদ। সব মিলিয়ে সংখ্যাটি ১০০–রও বেশি।

যে পরিবার একটা সময় অন্যদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করত, নিজেদের ভবিষ্যতের বিষয়ে আজ তাঁরাই পুরোপুরি অন্ধকারে।

লালবাগ শহরের কিলা নিজামত এলাকায় মহম্মদ রেজা আলি মির্জার বসবাস। ছেলে সৈয়দ মহম্মদ ফাহিম মির্জাও একই বাড়ির বাসিন্দা। মিরজাফরের বংশধরদের আরও অনেকে এই এলাকাতেই বসবাস করেন।

তাঁদের অনেকের নামই নিবিড় সংশোধনী তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। মাহিম মুর্শিদাবাদ পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলার। একে তো নবাব পরিবারভুক্ত তার ওপর রাজ্যের শাসক শিবিরের সদস্য। এহেন একজনের নামও এসআইআর তালিকা থেকে বাদ পড়ায় অনেকেই আশ্চর্য হয়েছেন।

লালবাগের ১২১ নম্বর বুথে নবাবের বংশধররা ভোট দেন। এই বুথে সব মিলিয়ে ৪৫০ জন ভোটার রয়েছেন। এসআইআর-এ তাঁদের মধ্যে ২৮৬ জনের নাম বাদ পড়েছে। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের বেশিরভাগই নবাব পরিবারের।

সূত্রের খবর, মূলত নামের হেরফেরের কারণেই নবাবের বংশধরদের এভাবে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। ভোটার তালিকায় মহম্মদ রেজা আলির মির্জার নামের আগে ‘সৈয়দ’ শব্দটি ছিল না। ছেলে ফাহিমের ক্ষেত্রে নামের মধ্যে ‘মহম্মদ’ শব্দটি ছিল না। তালিকায় ‘সৈয়দ ফাহিম মির্জা’ লেখা ছিল। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে পরে দুজনেই নিজেদের নাম সংশোধন করেন। এসআইআর-এ তাঁদের নাম প্রথমে ‘বিচারাধীন’ অবস্থায় ছিল। সেই নিয়ম মেনে ছোটে নবাব নিজের অসুস্থ শরীর নিয়েই লম্বা লাইনে দাঁড়ান। তিনি সেখানে গিয়ে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত তাঁদের নাম ‘ডিলিটেড’ বা বাতিল তালিকাভুক্ত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *