কলকাতা- মঙ্গলবার চরম ভোগান্তির মুখে পড়লেন ব্যাঙ্ক গ্রাহকরা। পাঁচ দিনের কর্মদিবস বা ‘ফাইভ ডে উইক’-এর দাবিতে ২৭ জানুয়ারি দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলির যৌথ মঞ্চ ‘ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস’ (ইউএফবিইউ)। রবি ও সোমবার ছুটির পর মঙ্গলবার ধর্মঘটের জেরে টানা তিনদিন ব্যাঙ্ক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
মূলত অল্টারনেট স্যাটারডে বা বর্তমানে প্রচলিত ব্যবস্থার বদলে সপ্তাহের সবকটি শনিবার ছুটির দাবিতে সরব হয়েছে ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলি। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশনের (আইবিএ) সঙ্গে ১২তম দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে এই প্রস্তাব গৃহীত হলেও, এখনও সরকারের তরফ থেকে চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি।
২৩ জানুয়ারি মুখ্য শ্রম কমিশনারের সঙ্গে ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের বৈঠক হলেও কোনও সমাধানসূত্র না মেলায় ধর্মঘটের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৯টি সংগঠনের এই যৌথ মঞ্চ।
এই প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ‘আমরা ব্যাঙ্কের শাখা ও অফিসগুলিতে স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তবে ধর্মঘটের জেরে ব্যাঙ্কের কাজ প্রভাবিত হতে পারে।’
স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (এসবিআই), পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (পিএনবি) এবং ব্যাঙ্ক অফ বরোদার মতো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিতে এই ধর্মঘটের প্রভাব সবথেকে বেশি পড়বে। নগদ জমা ও উত্তোলন, চেক ক্লিয়ারেন্স এবং ড্রাফট তৈরির মতো কাজ আটকে যেতে পারে। এদিকে, টানা ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকায় বেশ কিছু এলাকায় এটিএম-এ নগদ ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকছে। তবে স্বস্তির খবর হল, এইচডিএফসি, আইসিআইসিআই বা অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের মতো বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলিতে কাজ স্বাভাবিক থাকার সম্ভাবনা বেশি। ব্যাঙ্ক শাখাগুলি বন্ধ থাকলেও ইউপিআই (ইউপিআই), মোবাইল ব্যাঙ্কিং এবং ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং পরিষেবায় কোনও প্রভাব পড়বে না।
বর্তমানে ব্যাঙ্ক কর্মীরা প্রতি মাসে দ্বিতীয় ও চতুর্থ শনিবার ছুটি পান। ফলে বেশিরভাগ সপ্তাহেই ছয় দিনের কাজ করতে হয়। ইউনিয়নগুলির বক্তব্য, পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ চালু হলেও কাজের সময় নষ্ট হবে না, কারণ সোমবার থেকে শুক্রবার প্রতিদিন অতিরিক্ত ৪০ মিনিট কাজ করতে কর্মীরা রাজি হয়েছেন।
