দুর্গাপুরে ছাত্রীকে নির্যাতন-কাণ্ডে পুরসভার অস্থায়ী কর্মী গ্রেফতার, এই নিয়ে পুলিশের জালে মোট ৪

কলকাতা- ওড়িশা থেকে দুর্গাপুরে আসা এক মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে উত্তাল হয়েছে রাজ্য। ঘটনায় ইতিমধ্যেই চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

অভিযুক্ত হিসেবে ধরা পড়েছে দুর্গাপুর পুরনিগমের অস্থায়ী এক কর্মী। এখনও পঞ্চম অভিযুক্তের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

গত সপ্তাহে অভিযোগ দায়ের করেন ওই ছাত্রী। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর অভিযোগপত্রে পাঁচ জনের নাম উল্লেখ ছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের প্রত্যেকেরই ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। একই সঙ্গে ঘটনার রাতে সঙ্গে থাকা আক্রান্ত তরুণীর এক সহপাঠীকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তার কারণেও সেই যুবককে এখনই আটক রাখা হচ্ছে। ওই তরুণীর বাবা-মা ইতিমধ্যেই ওড়িশা থেকে দুর্গাপুরে এসে হাসপাতালে মেয়ের পাশে রয়েছেন।

তাঁদের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে তাঁরা আর নিরাপদ বোধ করছেন না। মেয়েকে সুস্থ করেই নিয়ে যেতে চান ওড়িশায়। তাঁদের ক্ষোভ ও অসন্তোষকে ঘিরে নতুন মাত্রা পেয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

বিজেপি ইতিমধ্যেই দুর্গাপুরে ধর্নার প্রস্তুতি নিয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সোমবার সশরীরে গিয়ে দোষীদের কড়া শাস্তির দাবিতে অবস্থান বিক্ষোভে বসবেন। হাসপাতালে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন বলেও ঘোষণা করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে শোনা যায়। উত্তরবঙ্গ যাওয়ার পথে তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। কলেজ কর্তৃপক্ষের আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল। পাশাপাশি, তিনি সতর্কবার্তা দেন, রাতের বেলা ছাত্রীরা যেন ক্যাম্পাসের বাইরে না বেরোন, সে বিষয়ে কলেজগুলিকে দায়িত্ব নিতে হবে। এদিকে, ওড়িশা থেকে এক প্রতিনিধি দল রবিবারই দুর্গাপুরে পৌঁছয়। কিন্তু অভিযোগ ওঠে তাঁদের হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *