প্রয়াত মুকুল রায়, বাংলার রাজনীতিতে এক অধ্যায়ের সমাপ্তি

কলকাতা – প্রয়াত মুকুল রায়। বঙ্গ রাজনীতির ‘চাণক্য’ হিসেবে পরিচিত মুকুল রায় দীর্ঘদিন ধরে রোগে ভুগছিলেন।

রাত দেড়টায় সময় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রয়াণকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে দলের সংগঠন গড়ে তোলার নেপথ্যে তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম।

তাঁর রাজনীতিতে তাঁর পদার্পণ কংগ্রেসের হাত ধরে। পরে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে দলবদল করে শেষে ফের তৃণমূলে ফিরেছিলেন তিনি। দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পরিচিত ছিলেন মুকুল রায়।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থেকেছেন। হয়েছেন রাজ্যসভার সদস্য থেকে বিধায়ক। ১৯৫৪ সালে স্বাধীন ভারতের কাঁচরাপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন মুকুল রায়। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে যুব কংগ্রেসে ছিলেন মুকুল রায়। সেখান থেকেই মমতার ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

১৯৯৮ সালে তৃণমূলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত জলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। পরে অবশ্য নারদ এবং সারদা কেলেঙ্কারিতে নাম জড়ায় তাঁর। দূরত্ব বাড়ে মমতার সঙ্গে।

২০১৭ সালে বিজেপিতে যোগদান করেন মুকুল রায়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিধানসভা নির্বাচনে জিতে বিধায়ক হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এটাই ছিল তাঁর প্রথম নির্বাচনে জয়। তবে বিধায়ক হওয়ার পরে তৃণমূলে ফিরে এসেছিলেন তিনি। যদিও সেভাবে আর রাজনীতিতে সক্রিয় হতে দেখা যায়নি তাঁকে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি ছিলেন পর্দার আড়ালেই।

মুকুল রায় ২০১২ সালের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছিলেন। তার আগে তিনি দ্বিতীয় ইউপিএ মন্ত্রীসভায় তিনি জাহাজ প্রতিমন্ত্রীও হয়েছিলেন। ২০০৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন। বিজেপিতে যোগদানের পরে তিনি দলের সর্বভারতীয় সহসভাপতি পদে ছিলেন।

২০০১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে মুকুল রায় জগদ্দল বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করে ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী হরিপদ বিশ্বাসের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *