একইদিনে রাজ্যে বাজ পড়ে মৃত্যু ১৮ জনের! মর্মান্তিক ঘটনা, নিম্নচাপের দুর্যোগ শুরু বাংলায়

কলকাতা- বজ্রপাত-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস আগেই দিয়েছিল আবহাওয়া দপ্তর। বৃহস্পতিবার দুপুরে একাধিক জেলায় আকাশ কালো করে ঝেঁপে বৃষ্টি নামে। অনেক জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিও হয়। আর সেই বজ্রপাতের ঘটনায় এ বার একাধিক জেলা থেকে মৃত্যুর খবর সামনে এল।

বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান ও পশ্চিম মেদিনীপুরে বজ্রপাতে ১৮ জন মারা যান ও আহত হন সাত জন। বাঁকুড়ার কোতুলপুর, ওন্দা, ইন্দাস, জয়পুর ও পাত্রসায়ের থানা এলাকায় বজ্রপাতে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন দু’জন। জানা গিয়েছে, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির মধ্যেই মাঠে আমন ধানের চারা লাগাচ্ছিলেন কোতুলপুর থানার খিরি গ্রামের বাসিন্দা জিয়াউল হক মোল্লা (৫০) ও আসপিয়া মোল্লা। আচমকা বজ্রপাত হলে গুরুতর আহত অবস্থায় দু’জনেই জমিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁদেরকে উদ্ধার করে স্থানীয় গোগড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসকরা জিয়াউল হক মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আসপিয়া মোল্লা ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বাঁকুড়ার ওন্দাতে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে একজনের। তাঁর নাম নারায়ণ সাওয়ার (৫০)। তাঁর বাড়ি ওন্দা থানার কামারকাটা এলাকায়। ইন্দাস থানার বাঙালচক এলাকায় বাজ পড়ে মৃত্যু হয়েছে শেখ ইসমাইলের (৫৫)। আহত হয়েছেন বুলটি বাগদি নামে এক মহিলা। বাঁকুড়ার জয়পুর থানার খড়িকাশুলি গ্রামে বাজ পড়ে মৃত্যু হয়েছে উত্তম ভুঁইয়ার (৩৩)। পাত্রসায়রের হাটকৃষ্ণনগরে মাঠে চাষ করার সময়ে বাজ পড়ে মৃত্যু হয়েছে জীবন ঘোষের (২০)। এ ছাড়াও বাজ পড়ে মৃত্যু হয়েছে বাঁকুড়ার রামকৃষ্ণপুরের বাসিন্দা তিলকা মাল (৪৯) এবং ভাদুলডাঙ্গার বাসিন্দা জবা বাউরির (৩৮)। বজ্রপাতে মৃত্যুর আরও একজনের নাম এখনও জানা যায়নি। আরও একজন ওন্দার ছাগুলিয়ার প্রতিমা রায়ের (৪৫) মৃত্যু হয়েছে।

অন্য দিকে, পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের মাধবডিহির বাসিন্দা সনাতন পাত্র (৬০) আলমপুরে মাঠে চাষ করছিলেন। সেই সময়ে বাজ পড়ে। মাধবডিহি থানার পুলিশ তাঁকে জখম অবস্থায় আলমপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আউসগ্রামের ভেদিয়ার বাসিন্দা রবীন টুডু (২৫) রাধামাধবপুরে মামা বাড়িতে গিয়েছিলেন। এ দিন তিনি দেয়াশা গ্রামের একটি জমিতে চাষের কাজ করছিলেন। সেই সময়ে বজ্রপাত হয়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে গুসকরা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *