‘তোকে মার্ডার করে দেব’…! ‘ননসেন’ শমীক অধিকারীর বিরুদ্ধে গোপন জবানবন্দি নির্যাতিতার

কলকাতা- শারীরিক নির্যাতন ও যৌন হেনস্তার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি ননসেন নামে পরিচিত।

১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেই শমীক অধিকারীকে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এর পর গোপন জবানবন্দি দিতেও রাজি হন ওই নির্যাতিতা।

সংবাদের মাধ্যমের কাছে সেই বিভীষিকাময় রাতের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন নির্যাতিতা।

নির্যাতিতা বলেছেন, “শমীক নতুন ফ্ল্যাটে শিফট করেছে। তাই বন্ধুর মতোই ডেকেছিল। বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ আমি যাই। ওর মা-বাবার সঙ্গে হাতে হাত লাগিয়ে কাজে সাহায্য করি জিনিসপত্র গোছাতে। পরেরদিন যেহেতু কলেজ ছিল তাই রাত ৯টা নাগাদ আমি বেরনোর জন্য ক্যাব বুক করতে যাই। আমার হাত থেকে তখনই মোবাইল নিয়ে যেতে বারণ করে শমীক। এরপরই আমার মোবাইল ঘাঁটা শুরু করে। সেখানেই অন্য এক ইনফ্লুয়েন্সারের সঙ্গে আমাকে কথা বলতে দেখে ওর অহমবোধে আঘাত লাগে। এরপরই দরজা বন্ধ করে আমাকে মারধর শুরু করে। তখনও ওর মা-বাবা ওখানে উপস্থিত। আমি তখন যেটাই উত্তর দিই না কেন, সব কথাতেই আমাকে মারছিল। মারের চোটে আমার এক চোখ ফুলে যায়। আমার চোখের নিচে এখনও কালশিটে পড়া। এর মাঝে আমার চিৎকার শুনে ওর মা-বাবা আসে। তখন ও নিজে সুইসাইডের হুমকি দেয়। ওর বাবা-মা তাতেই ভয় পায়। কিন্তু আমাকে মারছে দেখেও ওরা আমাকে একা ফেলে চলে যায়। আমি ওর মাকে ইশারা করে বলতে থাকি ‘আন্টি, কাউকে একটা ফোন করো।’

তিনি আরও বলেন, শমীক আমাকে মারতে মারতে জিজ্ঞেস করছিল- ‘তোর কি খুব লেগেছে?’ আমার মুখটা ধরে দেখে আমার চোখ ফুলে গেছে। কালশিটে। আমি যখন ছেড়়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করি। তখন আবারও আমাকে সপাটে মারে। তখন আমি চিৎকার করে উঠি। আমি এমনিতেই চশমা ছাড়া দেখতে পাই না। মারের চোটে তখন আমার চোখ বন্ধ হয়ে আসে। রাতভর এরকম পাশবিক আচরণ করেছে। ওর মা তারপর এসে আমার জামাকাপড় চেঞ্জ করিয়ে দেয়। তখন আমি বারবার বাড়ি ফেরার জন্য শমীক এবং ওর মা-বাবার কাছে অনুরোধ জানাই। কিন্তু ওরা আমার চেহারা দেখে আমাকে বাইরে যেতে না বলে। সেসময়ে আমার শরীর ছেড়ে দিয়েছিল। মারের চোটে আমি অজ্ঞান হয়ে গেছিলাম। তার পরের ঘটনা খুব অস্পষ্ট আমার কাছে।”

তিনি আরও বলেন,  “মারধরের মাঝেই শমীক আমাকে হুমকি দিচ্ছিল- ‘তুই কিছু করে দেখ। তুই এখান থেকে বেরিয়ে দেখ, তোকে মার্ডার করে দেব। তোর মৃত্যু আমার হাতেই আছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *