কলকাতা- হাসিখুশি, প্রাণবন্ত এক মেয়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সবসময় সক্রিয়। গায়িকা হিসেবে পরিচিত। সংগীতশিল্পী দেবলীনা নন্দীকে অনেকেই চেনেন।
শনিবার গভীর রাতে সেই দেবলীনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ২১ মিনিটের একটি লাইভে করেন। লেখেন- ‘এটাই শেষ কথা’। তারপর যা ঘটে, তা কার্যত স্তব্ধ করে দেয় নেটদুনিয়াকে।
লাইভে দেবলীনা কান্নায় ভেঙে না পড়লেও তাঁর কথায় স্পষ্ট ছিল অশান্তি আর জমে থাকা যন্ত্রণা। পেশাগত জীবনের হতাশার কথা তুলে ধরেন। জানান, ২১ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও কাজের জায়গায় গুরুত্ব পাচ্ছেন না। নিজের ব্যান্ড গড়ার স্বপ্নও বিয়ের পর ধীরে ধীরে চাপা পড়ে গেছে। এমনকি ব্যান্ড তৈরি করলে শো না পাওয়ার হুমকির কথাও বলেন তিনি।
এর পরই সামনে আসে ব্যক্তিগত জীবনের তীব্র সংকট। বিয়ের পর থেকেই তাঁর পেশা ও মাকে ঘিরে শুরু হয় টানাপোড়েন।
দেবলীনা বলেন, ‘মাকে ছেড়ে দিতে বলা হচ্ছে’। তিনি আরও বলেন, যিনি নিজে ছেঁড়া শাড়ি পরে মেয়ের জন্য জামা কিনেছেন, যাঁর উপস্থিতি ছাড়া তাঁর শো-ও যেন অসম্পূর্ণ-সেই মাকে কীভাবে ছেড়ে দেবেন?
দেবলীনার বক্তব্যে উঠে আসে আরও এক কঠিন বাস্তব-বিয়ের পর মেয়েদের ‘নিজের’ বলে কিছু থাকে না, সবটাই যেন শ্বশুরবাড়িকেন্দ্রিক। তিনি বলেন, সব সামলানোর চেষ্টা করেও তিনি আর পারছেন না। সারাক্ষণ খুশি থাকার ভান করতে করতে তিনি ফেড আপ।
লাইভ শেষের পরই তিনি চরম সিদ্ধান্ত নেন। সৌভাগ্যবশত, দ্রুত চিকিৎসার ফলে এখন তিনি বিপদমুক্ত এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে পাইলট প্রবাহ নন্দীর সঙ্গে বিয়ে করেছিলেন দেবলীনা। এক বছরের মধ্যেই সেই ‘পারফেক্ট লাইফ’-এর আড়ালে লুকিয়ে থাকা ভাঙনের ছবি সামনে এল।
