কলকাতা – বিহারের পর রাজ্যে হবে এসআইআর! আর এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা রাজ্যজুড়ে মানুষের মধ্যে তৈরী হয়েছিল আতঙ্ক।
আতঙ্কের ফলে ভোটার তালিকায় নাম তোলার হিড়িক এক লাফে বেড়ে গিয়েছিল অনেকটাই। আর তাই নিয়েই ঘুম উড়েছিল মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের কর্তাদের।
যদিও তখনই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগারওয়াল সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন এরকমভাবে ভোটার তালিকায় নাম তোলার হিড়িক দেখে। নির্বাচন কমিশনের এক কর্তা জানাচ্ছেন, নতুন ভোটার তালিকার নাম তুলতে পারেন ভারতবর্ষের যে কেউ। কিন্তু একজন নতুন ভোটার যার বয়স ১৮ বছর পেরিয়েছে তিনি যতটা সহজে নাম তুলতে সক্ষম হবেন, সেই জায়গায় একজন বয়স্ক মানুষ যদি ভোটার তালিকায় নতুনভাবে নাম তোলাতে আগ্রহ প্রকাশ করেন সেই ক্ষেত্রে তাঁকে বহু প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে।
কারণ নির্বাচন কমিশনের যে গাইডলাইন আছে তাকে মেনে যদি ভোটার তালিকায় নাম সংযুক্তি করনের কাজ করতে হয় তাহলে ভোটার তালিকা থেকে অনেকের নামই বাদ পড়বে।
১লা জুন থেকে ৭ই অগাস্টের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে মোট ১০.০৪ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য।
এর মধ্যে ৬.০৫ লক্ষ আবেদন গৃহীত হয়েছে। কিন্তু তা এখনও পর্যন্ত মঞ্জুর হয়নি এবং বাকি ৪০.২৩ শতাংশ বাতিল করা হয়েছে। কারণ সেই আবেদনগুলো ভুয়ো নথি দাখিল করেছিল বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর।
রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদনপত্র বাতিল হচ্ছে সবচেয়ে বেশি:-
মুর্শিদাবাদ – ৫৬.৪৪ শতাংশ
কোচবিহার ৪৪.৮৩ শতাংশ
উত্তর দিনাজপুর ৪৪.৮১ শতাংশ
দক্ষিণ ২৪ পরগনা ৪৪.৬৮ শতাংশ
মালদা ৪১.২৫ শতাংশ
নদিয়া ৪২.১১ শতাংশ।
যদিও এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন সবকিছু খতিয়ে দেখছে জোর কদমে। কারণ কমিশন সূত্রে খবর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই বিহার বাদে গোটা দেশে এসআইআর বা নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু হতে চলেছে। তার আগে ভোটার তালিকায় যাতে সবদিক থেকে স্বচ্ছতা বজায় থাকে সেই কারণেই প্রাচ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর এখন থেকেই সবকিছু কড়া হাতে পরিচালনা করছে।
