কলকাতা – পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের দ্বিতীয় পর্ব বা SIR 2.0 শুরু হচ্ছে আজ ২৭ ডিসেম্বর থেকে। এই পর্বে রাজ্যজুড়ে এক কোটিরও বেশি ভোটারকে শুনানির আওতায় আনা হবে। নির্বাচন কমিশন (ECI) জানিয়েছে, শুনানির সময় শুধুমাত্র আধার কার্ডকে পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণ করা হবে না।
শুনানি প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই মাইক্রো অবজার্ভারদের প্রশিক্ষণের কাজও শুরু করেছে। তাঁদের দায়িত্ব থাকবে শুনানি চলাকালীন কমিশনের নির্দেশিকা ঠিকভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নজরে রাখা।
কোনও ইআরও (ERO) বা এআরও (AERO)-র কাজে অনিয়ম ধরা পড়লে প্রথমে সতর্ক করা হবে। তাতেও কাজ না হলে সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে রিপোর্ট পাঠাবেন মাইক্রো অবজার্ভাররা।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে কমপক্ষে ১১টি করে শুনানির টেবিল বসানো হবে। প্রতিটি টেবিলে থাকবেন একজন ইআরও বা এআরও এবং একজন মাইক্রো অবজার্ভার। ফলে রাজ্যজুড়ে মোট ৩,২৩৪টি টেবিলে শুনানি চলবে। প্রয়োজনে টেবিলের সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে। পাশাপাশি, ৪ হাজারের বেশি মাইক্রো অবজার্ভার মোতায়েন করা হতে পারে।
বুধবার জারি করা এক নির্দেশিকায় নির্বাচন কমিশন শুনানির পদ্ধতি স্পষ্ট করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, যেসব ভোটারকে ইআরও-রা নোটিস পাঠিয়েছেন, তাঁদের যোগ্যতা প্রমাণে নির্দিষ্ট নথি জমা দিতে হতে পারে। এর মধ্যে আগের SIR-এ ম্যাপিং সংক্রান্ত নথিও থাকতে পারে। জমা দেওয়া সমস্ত নথি BLO অ্যাপের মাধ্যমে আপলোড করতে হবে, যা পরে ইআরও-রা পরীক্ষা করবেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে প্রায় ১০ লক্ষ ভোটারকে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে। মোট ১ কোটি ৬৭ লক্ষ ভোটারের নাম যাচাইয়ের আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের তথ্যে কিছু অসঙ্গতি রয়েছে এবং ৩১ লক্ষ ভোটারের নামের সঙ্গে কোনও ম্যাপিং নেই। প্রথমে এই ৩১ লক্ষ ভোটারের শুনানি শুরু হবে।
