লক্ষ্য ২০২৬ নির্বাচন জয়, তৃণমূলের প্রার্থী বাছাইয়ে এবার সব থেকে বড় ফ্যাক্টর ‘বয়স’!

কলকাতা- আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের শাসকদলের বিধায়কের যোগ্যতার জন্য এবার বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে প্রার্থীদের বয়স।

ইতিমধ্যে তৃণমূলের অন্দরে সত্তর উর্ধে প্রার্থীদের নিয়ে অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা শুরু হয়েছে। বর্তমানে যারা বিধায়ক তাদের বয়স, শারীরিক অবস্থা, রাজনীতিকভাবে কতটা সক্রিয় এবং মানুষের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে দলীয়ভাবে সমীক্ষা শুরু করল রাজ্যের শাসক দল। সূত্রের খবর আসন্ন বিধান সভা নির্বাচনের আগে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মাপদণ্ড স্থির করতে চলেছে শাসক দল তৃণমূল। দলের মধ্যে ইতিমধ্যে সত্তরের উর্ধে বয়েসী বিধায়ক দের নিয়ে অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা শুরু হল।

এর মাধ্যমে এই সমস্ত বয়স্ক বিধায়ক দের একটি পৃথক তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর। যেখনে দেখা হচ্ছে যে এই সমস্ত অভিজ্ঞ এবং প্রবীণ বিধায়ক দের জনসাধারণের সঙ্গে জনসংযোগ কত টা সক্রিয় ভাবে রয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থার প্রভাব কি দলীয় রাজনীতির উপরে পড়ছে কি না!

তারা কি সক্রিয়ভাবে আদৌ রাজনীতিক কর্মসূচিতে নিয়মিত যোগদান করছেন কি না। তবে এটা ও ঠিক যে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব সময়েই প্রবীণ এবং নবীনের মেলবন্ধন চান। প্রবীণদের বাদ দিয়ে কোনওদিনই তিনি দলকে ভাবেন না। তাই দলীয় বৈঠকের মধ্যে দিয়ে তিনি সব সময়েই প্রবীণদের সঙ্গে নিয়ে চলার বার্তা নবীনদের কাছে দিয়ে থাকেন।

আবার একাধিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তিনি তাঁর প্রয়াত বিধায়কদের জায়গায় তাঁর পরিবারের একজনকে সেই আসনে বসিয়েছেন। ফলে এই প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে বর্ষীয়ান বিধায়কদের জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে তাদের পরিবারের নতুন তরুণ প্রজন্মেকে বিকল্প হিসাবে তৈরি ও করে দিতে পারেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কারণ, তৃণমূল নেত্রী নেতা তৈরি করেন নেতা গড়ে তুলেন এবং নতুন প্রজন্ম কে সুযোগ তৈরি করে দিয়ে থাকেন। প্রসঙ্গত বর্তমানে তৃণমূলের 294 টি আসনে 220 জন বিধায়ক রয়েছেন। এছাড়া বিজেপি ত্যাগ করে আরো 6 জন বিধায়ক ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিয়েছেন।

দলীয় সূত্রের খবর সত্তরের উর্ধে বিধায়ক দের নিয়ে অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে যে 1 জানুয়ারি 2026 সাল পর্যন্ত সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে যে মোট 70 বা তার বেশি বয়সের বিধায়ক দের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। সমীক্ষার অনুযায়ী মোট 57 জন বর্তমানে বিধায়ক রয়েছেন যাদের বয়েস সত্তরে উর্ধ্বে।

তার মধ্যে 16 জন কেবিনেট মন্ত্রী ও রয়েছেন। যেখনে 6 জন মহিলা বিধায়ক, 70 বছরের বেশি বয়সের চিকিৎসক বিধায়কের সংখ্যা মাত্র 4 জন। দলীয় সূত্রে অনুযায়ী জেলা ভিত্তিক যদি সমীক্ষা তালিকায় দেখা যাচ্ছে 70 এর ঊর্ধ বয়েসের বিধায়ক দের সংখ্যা দক্ষিণ 24 পরগনায় রয়েছে 11 জন। উত্তর 24 পরগনায় 6 জন, পূর্ব বর্ধমান জেলায় 5 জন , নদিয়া জেলায় 5 জন, পশ্চিম মেদিনীপুরের 4 জন 70 উর্ধে বিধায়ক রয়েছেন। তবে আসন্ন বিধান সভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের মাপকাঠি হিসেবে সব দিক খুঁটিয়ে দেখে সমীক্ষা চালিয়ে তবেই করা হবে বলে দলীয় সূত্রে খবর।

সারা বছর যারা মানুষের সাথে থাকেন মানুষের পাশে থাকেন। সেই রকম 70 এর উর্ধে বিধায়ক দের নিয়ে দলে চিন্তা নেই। তাদের কে নিয়ে শাসকদল ভাবছে যারা নিজেদের বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনীতিক ভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে ব্যার্থ বা যাদের সঙ্গে মানুষের জনসংযোগ কমে গেছে বা অনেক সময় ধরে এলাকায় দেখা যায় না।

আবার দলের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা উঠে আসছে যে প্রবীণ দের বিকল্পও যদি কোনো নেতার জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে তাদের কে মনোনীত করলে দলের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠবে না তো। দলের মধ্যে টিকিট নিয়ে অসন্তুষ্ট তৈরি না হয়। তার জন্য সমস্ত দিক খুঁটিয়ে দেখছে শাসকদল।

সূত্রের খবর একটি আসনে এখন পর্যন্ত 5 টি করে নাম স্থির করার চিন্তাভাবনা রয়েছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের। ফলে মান অভিমান, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থেকে নিয়ে বিকল্প চিন্তাভাবনা সব বিষয়ের উপরে নজর রাখতে চাইছে রাজ্যের শাসকদল বলে দলীয় সূত্রে খবর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *