কলকাতা- ভারতের ‘ফুসফুস’ বলে পরিচিত প্রাচীন আরাবল্লী পর্বতমালা ধ্বংসের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার!
আরাবল্লী পর্বতমালায় খনি খনন ও পরিবেশ রক্ষা নিয়ে চলা বিতর্কে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করল দেশের শীর্ষ আদালত। আরাবল্লী সংক্রান্ত বিবাদ সুপ্রিম কোর্টের নজরে আসতেই, স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি শোনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদালত।
আজ, সোমবার ভারতের প্রধান বিচারপতির (CJI) নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চে এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হবে।
আরাবল্লী রেঞ্জের সংজ্ঞা এবং সেখানে খনি খননের অনুমতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। পরিবেশবিদদের অভিযোগ, আরাবল্লীর বিস্তীর্ণ এলাকায় অবৈধ খননের ফলে সেখানকার বাস্তুতন্ত্র মারাত্মক হুমকির মুখে।
এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি আদালতের নজরে এলে, সুপ্রিম কোর্ট নিজেই উদ্যোগী হয়ে মামলাটি তালিকাভুক্ত করে। সোমবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এই মামলাটি শুনবে।
এই শুনানির দিকে তাকিয়ে আছেন পরিবেশকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। কারণ আদালতের রায় বা পর্যবেক্ষণ আরাবল্লীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
কেন এই বিতর্ক?
মূল বিবাদটি দাঁড়িয়ে আছে আরাবল্লীর ‘সংজ্ঞা’ বা সীমানা নির্ধারণের ওপর। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের একটি প্যানেল আরাবল্লীর যে নতুন সংজ্ঞা প্রস্তাব করেছিল, তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন পরিবেশবিদরা। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, নতুন এই সংজ্ঞার ফলে আরাবল্লীর প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা আইনি সুরক্ষ কবচ থেকে বেরিয়ে যাবে এবং সেখানে অবাধে খনি খননের রাস্তা খুলে যাবে।
যদিও কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক সম্প্রতি আরাবল্লী রেঞ্জে নতুন করে খনি লিজ (Mining Lease) দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, তবুও বিদ্যমান খনি এবং অবৈধ খনন নিয়ে উদ্বেগ কমেনি।
শুনানির গুরুত্ব: সোমবার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এই মামলায় কোনও কড়া নির্দেশিকা জারি করে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে সারা দেশ। আদালতের রায় বা পর্যবেক্ষণ কেবল খননকার্য নয়, বরং গোটা উত্তর ভারতের পরিবেশগত ভবিষ্যতের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের এই দ্রুত শুনানির সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, উন্নয়নের চেয়ে পরিবেশ রক্ষা ও বাস্তুতন্ত্র বজায় রাখাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে দেশের বিচারব্যবস্থা।
