কলকাতা – ভাদ্র মাসের অমাবস্যা তিথিতে প্রতি বছর কৌশিকী অমাবস্যা পালিত হয়। দেবী কৌশিকীর নাম অনুসারে এই দিনটি কৌশিকী অমাবস্যা নামে পরিচিত। তন্ত্র সাধকদের কাছে বিশেষ করে কৌশিকী অমাবস্যা অত্যন্ত মাহাত্ম্যপূর্ণ।
প্রচলিত বিশ্বাস, এই দিনে আদ্যাশক্তি মহামায়ার আরাধনা করলে দেবীর অশেষ কৃপা লাভ করা যায়। তারাপীঠে সাধক বামাক্ষ্যাপা কৌশিকী অমাবস্যাতেই সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন।
এই তিথিতে তারাপীঠে সারারাত ধরে মা তারার বিশেষ পুজো করা হয়। হিন্দুধর্মের পাশাপাশি বৌদ্ধধর্মেও কৌশিকী অমাবস্যার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। আজ ২২ অগস্ট ২০২৫ শুক্রবার, বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসারে ৫ ভাদ্র সকাল ১১ টা ৫৮ মিনিটে অমাবস্যা পড়ছে। অমাবস্যা ছেড়ে যাবে আগামিকাল সকাল ১১ টা ৩৭ মিনিটে।
কে দেবী কৌশিকী?
দেবী কৌশিকী আসলে আদ্যাশক্তি মহামায়ারই আর একটি রূপ। কৌশিকী অমাবস্যা তিথিতেই তিনি শুম্ভ ও নিশুম্ভ নামে দুই অসুরকে বধ করেছিলেন। এই দুই অসুরকে ব্রহ্মা বর দিয়েছিলেন যে একমাত্র কোনও অযোনি সম্ভূত নারী তাঁদের বধ করতে পারবেন। অর্থাৎ মাতৃগর্ভ থেকে জন্ম হয়নি, এমন কোনও নারীর হাতেই তাঁদের মৃত্যু হবে। কিন্তু এমন নারী কোথায়? তাই নিজেদের এক প্রকার অমর ভেবে স্বর্গ মর্ত্য জুড়ে অত্যাচার শুরু করে দুই অসুর ভাই শুম্ভ ও নিশুম্ভ। তখন সব দেবতারা মিলে মহাদেবের কাছে এই সমস্যার সমাধানের উপায় জানতে যান।
দেবীর গায়ের ঝরে পড়া কালো কোষ থেকে সৃষ্টি হয় ঘোর কৃষ্ণবর্ণ অপরূপ সুন্দরী এক দেবীর। কোষ থেকে জন্ম হয় বলে তাঁর নাম কৌশিকী। অযোনি সম্ভূত এই দেবী ভাদ্র অমাবস্যায় শুম্ভ নিশুম্ভকে বধ করেন। তাই এই তিথিকে কৌশিকী অমাবস্যা বলা হয়। তন্ত্র মতে এই রাতকে তারা রাত্রিও বলা হয়। এই রাতে এক বিশেষ মুহূর্তে স্বর্গ ও নরকের দরজা খুলে যায় এবং সাধক শুভ বা অশুভ শক্তির অধিকারী হতে পারেন। এই রাতে কঠোর তপস্যা করলে কূলকুণ্ডলিনী জাগ্রত হতে পারে বলে মনে করা হয়।
