কলকাতা- তাঁর জীবন, লড়াই নিয়ে তৈরি হচ্ছে সিনেমা। আর সেই ধুরন্ধর সিনেমা ঘিরে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে শহিদ মেজর মোহিত শর্মা।
রণবীর সিং অভিনীত ‘ধুরন্ধর’ সিনেমা মুক্তি স্থগিত করতে মামলা করেন মেজর মোহিতের পরিবার। অশোক চক্র এবং সেনা পদকপ্রাপ্ত শহিদ মেজর মোহিত শর্মার বাবা-মায়ের দাবি, গল্পটি বিশেষ বাহিনীর অফিসার শহিদ মেজর মোহিতের জীবন এবং গোপন অভিযান থেকে অনুপ্রাণিত বলে মনে হচ্ছে। তবে সিনেমা তৈরির জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী বা মেজর শর্মার পরিবারের কাছ থেকে কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি।
পরিচালক আদিত্য ধর দাবি করেছেন, সিনেমাটি মেজর শর্মার জীবন থেকে অনুপ্রাণিত নয়। তবে কে ছিলেন মোহিত শর্মা? নিজের জীবনে কী কী করেছিলেন তিনি?
১৯৭৮ সালে হরিয়ানার রোহতকে জন্মগ্রহণ করেছিলেন মেজর মোহিত শর্মা। ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১ প্যারা স্পেশাল ফোর্সেস (প্যারা এসএফ)-এর অফিসার ছিলেন তিনি। গোপন এবং বিপজ্জনক মিশন পরিচালনা করে এই প্যারা এসএফ।
মেজর মোহিত ১৯৯৫ সালে ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমিতে (এনডিএ) যোগদান করেন। ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমি থেকে পাশ করার পর তিনি ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে মাদ্রাজ রেজিমেন্টের ৫ম ব্যাটালিয়নে কমিশন লাভ করেন তিনি।
নিজের চাকরি জীবনে মেজর মোহিত বেশ কয়েকটি বিপজ্জনক বিদ্রোহ দমন অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।
২০০৪ সালে মেজর মোহিত শর্মা গোপনে হিজবুল মুজাহিদিন গোষ্ঠীতে যোগদান করেছিলেন। এই অপারেশনের জন্য মেজর মোহিত ‘ইফতিকার ভাট’ নাম গ্রহণ করেছিলেন। সেই অপারেশনের সময় মেজর মোহিত চুল লম্বা করেছিলেন।
তিনি জঙ্গিদের আস্থাভাজন হতে তাদের কাছে ভুয়ো দাবি করেছিলেন, তাঁর ভাইকে ভারতীয় সেনা মেরেছিল, তাই তিনি ভারতের সেনাকে ঘৃণা করেন। এভাবেই হিজবুলের গোপন তথ্য সংগ্রহ করতেন মোহিত। এই কাজের জন্য তিনি বীরত্বের জন্য সেনা পদক পেয়েছিলেন।
পাঁচ বছর পর ২০০৯ সালের মার্চ মাসে মেজর মোহিত শর্মা কাশ্মীরের কুপওয়ারা জেলায় একটি অভিযানে নেমেছিলেন। ঘন বনাঞ্চলে মিশনের সময় জঙ্গিদের গুলিতে জখম হয়েছিলেন তিনি। চোট নিয়েও অভিযান চালিয়ে গিয়েছিলেন মেজর মোহিত। সেই অভিযানে ৪ জঙ্গি খতম হয়েছিল। পরে মৃত্যু হয়েছিল মেজর মোহিতের। তাঁকে মরণোত্তর অশোক চক্রে ভূষিত করা হয়েছিল।
