বুধবার ভারত বনধ! ২৫ কোটি কর্মীর কর্মবিরতির ডাক, পরিষেবায় কতটা প্রভাবের সম্ভাবনা?

কলকাতা- বুধবার দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক। এই কর্মবিরতিতে অংশ নিতে চলেছেন ব্যাঙ্ক, বিমা, ডাক পরিষেবা থেকে কয়লাখনি, পরিবহণ-সহ বহু ক্ষেত্রের ২৫ কোটির বেশি শ্রমিক।

এই আন্দোলনের ঢেউ পৌঁছে গিয়েছে গ্রামেও। কারণ, শ্রমিক সংগঠনগুলির পাশাপাশি কৃষক সংগঠন ও কৃষি শ্রমিকদের মোর্চাও জানিয়েছে সমর্থন। যার জেরে আশঙ্কা করা হচ্ছে, থমকে যেতে পারে দেশের বহু পরিষেবা।

৯ জুলাই দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে দেশের ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের যৌথ মঞ্চ। তাঁদের অভিযোগ, কেন্দ্রের শ্রমনীতি একেবারে কর্পোরেটমুখী, যা শ্রমিক, কৃষক ও দেশের সার্বভৌম স্বার্থের পরিপন্থী।

এই নীতির বিরুদ্ধে গত কয়েক মাস ধরেই সংগঠনের তরফে লাগাতার প্রস্তুতি চলেছে, যার পরিণতিতে এবার বড়সড় বনধ। তাঁদের দাবি, ধর্মঘট শুধু কাজ বন্ধ রাখা নয়, এটি এক সর্বভারতীয় প্রতিবাদের প্রতীক।

বছরের পর বছর ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ১৭ দফা দাবি পেশ করে এসেছে শ্রমিক সংগঠনগুলি। কিন্তু অভিযোগ, সেই দাবিগুলিকে গুরুত্ব না দিয়ে সরকার পাশ করিয়েছে চারটি নতুন শ্রম কোড। যেগুলি কার্যত শ্রমিক অধিকার খর্ব করার জন্যই তৈরি।

এই কোডে ট্রেড ইউনিয়নের সংগঠিত প্রতিবাদ, ধর্মঘটের অধিকার এবং শ্রমিক সুরক্ষার কাঠামো দুর্বল করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, কাজের সময় বাড়ানো, বেতন কাঠামোয় স্বচ্ছতা হ্রাস এবং কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে আইনি দায়বদ্ধতার বাইরে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ।

শুধু শ্রমিক নয়, কৃষক সংগঠনও এই আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছে। সংযুক্ত কৃষক মোর্চার তরফে জানানো হয়েছে, সরকার যেভাবে কৃষি এবং শ্রমকে কর্পোরেটের হাতে তুলে দিতে চাইছে, তা ভারতের আর্থ-সামাজিক কাঠামোর পক্ষে এক বিপজ্জনক সঙ্কেত। ফলে এবারের ধর্মঘট শহর ও শিল্পাঞ্চল ছাড়িয়ে গ্রাম এবং চাষের জমিতেও প্রভাব ফেলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *