‘আমাদের কিছু করার নেই’, ইয়েমেনে ভারতীয় নার্সের মৃত্যুদণ্ড নিয়ে আদালতকে জানিয়ে দিল কেন্দ্র

কলকাতা- ভারত সরকারের কিছু করার নেই। ইয়েমেনে কেরলের নার্স নিমিশা প্রিয়ার মৃত্যুদণ্ড আটকানো নিয়ে সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এমনটাই জানাল কেন্দ্র।

নিমিশার মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশে স্থগিতাদেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিল ‘সেভ নিমিশা প্রিয়া অ্যাকশন কাউন্সিল’ নামে একটি সংগঠন। সেই মামলার শুনানিতেই এদিন বিচারপতি সুধাংশু ধুলিয়া এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে কেন্দ্রের অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরামানি বলেন, ‘এটা দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু আমরা একটা পর্যায় অবধি যেতে পারতাম। আর তত দূর পর্যন্ত গিয়েও ছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইয়েমেন ভারতের দ্বারা কূটনৈতিকভাবে স্বীকৃত নয়। তাছাড়া বিশ্বের অন্য কোনও অংশের মতো নয় ইয়েমেন। তাই প্রকাশ্যে এনে পরিস্থিতি জটিল করতে চাইনি। আমরা ব্যক্তিগত পর্যায়ে চেষ্টা করেছি।’

উল্লেখ্য, ১৬ জুলাই অর্থাৎ বুধবার ইয়েমেনে নিমিশার ফাঁসি কার্যকর হবে। উল্লেখ্য, ২০০৮ সাল থেকে কেরলের বাসিন্দা নিমিশা প্রিয়া ইয়েমেনে একজন নার্স হিসেবে কাজ করছিলেন। বিয়ের পর থেকে তাঁর স্বামী টমি থমাস এবং মেয়েকে নিয়ে সে দেশে থাকতেন তিনি। কিন্তু ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধের কারণে নিমিশার স্বামী ও মেয়ে কেরলে ফিরে আসেন। কিন্তু নিমিশা ইয়েমেনেই থেকে যান।

এর পর ইয়েমেনের এক নাগরিক তালাল আবদো মাহদির সঙ্গে মিলে সে দেশে একটি ক্লিনিক খোলেন নিমিশা। কিন্তু একটা সময় পর অংশীদারিত্ব নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ বাধে। অভিযোগ, মাহদি নিমিশার উপর শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। এমনকী তাঁর পাসপোর্টও কেড়ে নিয়েছিলেন। তাই নিজের পাসপোর্ট উদ্ধারের জন্য মাহদিকে ঘুমের ইঞ্জেকশন দেন নিমিশা। কিন্তু ওভারডোজের কারণে মৃত্যু হয় ওই মাহদির।

ধরা পড়ার ভয়ে অন্য একজনের সাহায্য নিয়ে মাহদির দেহের টুকরো করে জলের ট্যাংকে ফেলে দেন নিমিশা। কিন্তু ইয়েমেন ছেড়ে পালাতে গিয়েই ধরা পড়ে যান তিনি। সেই থেকে ইয়েমেনেই জেলবন্দি নিমিশা। ২০১৮ সালে দোষী সাব্যস্ত করে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ইয়েমেনের আদালত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *