কলকাতা- ‘বিয়ের পবিত্র বন্ধন কেবলমাত্র একটি বাণিজ্যিক লেনদেনে পরিণত হয়েছে’- পণের দাবিতে অত্যাচার প্রেক্ষিতে আক্ষেপ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট।
শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, পণের বিষয়টি বিয়ের পবিত্রতাকে নষ্ট করে দেয়। সেইসঙ্গে মহিলাদের উপর ধারাবাহিকভাবে নিপীড়ন এবং তাঁদের পরাধীনতার বিষয়টিকে চিরস্থায়ী করে দেয় বলেও সতর্ক করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
শীর্ষ আদালতের বিচারপতি বিভি নাগরত্না এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্টভাবে বলেছে, পণের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিতে হবে।
উত্তরপ্রদেশের ফতেপুর জেলার একটি ঘটনায় চাঞ্চল্য ছ়ড়ায়। পণের দাবিতে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্ত্রী’কে হত্যার অভিযোগ উঠেছিল। তাঁর জামিন খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। অবিলম্বে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছে।
গত ৯ জানুয়ারি এলাহাবাদ হাইকোর্টে ওই ব্যক্তি জামিন পেয়ে গিয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন মৃতার বাবা। বিয়ের চার মাসের মধ্যেই ২০২৩ সালের ৫ জুন মৃত্যু হয়েছিল অভিযুক্ত ব্যক্তির স্ত্রী’র।
মামলাকারী জানিয়েছেন, বিয়েতে নগদ ২২ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। সেইসঙ্গে দেওয়া হয়েছিল ১০ লাখ টাকার জিনিসপত্র এবং ১৫ লাখ টাকা গয়নাও। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই আরও পণের দাবিতে মহিলার উপরে অত্যাচার চালাতে থাকেন স্বামী এবং শ্বশুড়বাড়ির লোকজনরা। দেওয়া হতে থাকে হুমকি। শারীরিক নির্যাতন করারও অভিযোগ ওঠে।
মৃত মহিলার দিদি জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগের রাত দেড়টা নাগাদ বোন ফোন করেছিলেন। হাউমাউ করে কাঁদছিল। বলেছিলেন যে তাঁর দেহে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন কিছু একটা ঢেলে দিয়েছে, যা থেকে দুর্গন্ধ ছাড়ছে।
সেই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরই মহিলার মৃত্যু হয়। তার ১০৪ দিন পরে গ্রেফতার করা হয় মৃতার স্বামীকে। সুপ্রিম কোর্ট কড়া ভাষায় জানিয়েছে, এরকম সব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও স্বামীকে গ্রেফতার করতে যে এতদিন সময় লেগে গেল, তা চূড়ান্ত গাফিলতির বিষয়টি তুলে ধরে।
