কলকাতা – ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ফর্ম বা ‘ফর্ম-৭’ বোঝাই একটি গাড়িকে কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বাঁকুড়ার খাতড়া।
বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়কের ওপর তালড্যাংরা থেকে আসা একটি সাদা রঙের চারচাকার গাড়িকে ধাওয়া করে আটক করেন তৃণমূল কর্মীরা। গাড়ির ভেতরে গুচ্ছ গুচ্ছ ফর্ম দেখে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় খাতড়া থানার পুলিশ এবং আটক করা হয় দুই বিজেপি কর্মীকে।
খাতড়া থানায় হাজির হন রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের মন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডি এবং তৃণমূলের জেলা সভাপতি তারাশঙ্কর রায়। জ্যোৎস্না মান্ডি অভিযোগ করেন, “গাড়িতে ২০ থেকে ২১টি ফর্মের বড় তাড়া রয়েছে। বিজেপি নিজেদের দলীয় কার্যালয়ে বসে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য এই কয়েক হাজার ফর্ম পূরণ করেছে। আমাদের কর্মীরা সতর্ক থাকায় এই বড় চক্রান্ত রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।” তৃণমূলের দাবি, প্রায় ৩ হাজার পূরণ করা ফর্ম নিয়ে বিজেপির কর্মীরা গোপনে তা জমা দিতে যাচ্ছিলেন।
এই ঘটনার রেশ পৌঁছেছে নবান্ন পর্যন্ত। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন নবান্নে সংবাদ সম্মেলনের মাঝেই ওই ফর্মের ছবি তুলে ধরে বিজেপিকে কড়া আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “গাড়িতে করে প্রায় ১০ হাজার ফর্ম নিয়ে যাওয়া হয়েছে নাম ডিলিট করার জন্য। ফাইলের পর ফাইল, বস্তা বস্তা কাগজ! এটা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর চরম আঘাত। জীবিতকে মৃত সাজিয়ে নাম বাদ দেওয়ার এই নোংরা খেলা আমরা মানব না।”
বিজেপির পক্ষ থেকে অবশ্য এই অভিযোগকে পুরোপুরি ‘অপব্যাখ্যা’ বলে দাবি করা হয়েছে। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকার বলেন, “আমাদের যে বিএলএ-রা (BLA) স্থানীয় বিএলও-দের কাছে সময়মতো ফর্ম জমা দিতে পারেননি, তাঁরাই একত্রিতভাবে এসআইআর-এর (AERO) কাছে সেই ফর্মগুলো জমা দিতে যাচ্ছিলেন। তৃণমূলের লোকজন আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং তাঁদের মারধর করে ফর্ম ছিনিয়ে নিয়েছে।”
