কলকাতা- হাসপাতালে সন্তানের চিকিৎসা করাতে এসে স্বামীকে হারালেন সোনালি দত্ত বন্দ্যোপাধ্যায়। আরজি কর হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ইউনিটে লিফট বিপর্যয়। সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন তিনি।
অন্ধকার বেসমেন্টে তিন বছরের আতঙ্কিত সন্তানকে নিয়ে স্বামীর নিথর দেহের পাশে দীর্ঘক্ষণ আর্তনাদ করেও মেলেনি সাহায্য। মর্মান্তিক এই ঘটনায় হাসপাতালের পরিকাঠামো ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন।
সোনালি জানান, শুক্রবার রাতে তিন বছরের ছেলের ভাঙা হাতের চিকিৎসা করাতে তাঁরা আরজি করে গিয়েছিলেন। রাত ১০টা নাগাদ লিফটে ওঠার পরই শুরু হয় যান্ত্রিক বিভ্রাট। লিফট সোজা বেসমেন্টে গিয়ে নামলে আতঙ্কিত সোনালি ও তাঁর সন্তান বেরিয়ে এলেও অরূপবাবু বেরোতে পারেননি।
সোনালি বলেন, “অন্ধকার বেসমেন্টে আমরা লিফটের নিচের গর্তে পড়ে যাই। অরূপ অর্ধেক আটকে থাকা অবস্থাতেই লিফট ফের উপরের দিকে উঠতে শুরু করে। আমি ‘হেল্প হেল্প’ বলে চিৎকার করছিলাম, কিন্তু কেউ আসেনি। হঠাৎ ওর রক্তাক্ত দেহটা আমার কোলের ওপর এসে আছড়ে পড়ল।”
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বেসমেন্টের বাইরে একটি লোহার গ্রিল তালাবন্ধ ছিল। দীর্ঘক্ষণ সেই তালার চাবি খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও অরূপবাবুকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে টালা থানার থেকে তদন্তভার হাতে নিয়েছে কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড বিভাগ। অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। শুক্রবারই লিফটম্যান মিলনকুমার দাস, বিশ্বনাথ দাস, মানসকুমার গুহ এবং নিরাপত্তারক্ষী আশরাফুল রহমান ও শুভদীপ দাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সরকারি হাসপাতালের লিফট কি তবে সাধারণ মানুষের জন্য মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়াচ্ছে? আরও একবার জোরালো প্রশ্ন উঠল।
