অর্জুন সিংয়ের মারাত্মক দাবি, তোলপাড় বাংলার রাজনীতি! জগদ্দল-কাণ্ডে ধৃত তৃণমূল কাউন্সিলার সহ ৪

কলকাতা- প্রধানমন্ত্রীর সভার ঠিক আগে জগদ্দলে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড়।

রবিবার রাতের সেই রণক্ষেত্রের রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার সকালে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং।

তাঁর দাবি, এই অশান্তি আদতে তাঁর পুত্র বিজেপি প্রার্থী পবন সিং ও রাজেশ কুমারকে প্রাণে মারার এক পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।

সোমবার সকালে এক সাংবাদিক বৈঠকে অর্জুন সিং দাবি করেন, এই হামলা কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়। তাঁর কথায়, “প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন জনসভা বানচাল করার উদ্দেশ্যেই এই ছক কষা হয়েছিল। পবন সিং এই ঘটনায় যুক্ত না থাকলেও তাঁর বাড়িতে ইট-পাটকেল ছোঁড়া হয়েছে এবং তাঁর নিরাপত্তারক্ষী জওয়ানের গায়ে গুলি লেগেছে।”

অর্জুন সিং আরও অভিযোগ করেন যে, পরিস্থিতি যখন হাতের বাইরে চলে যাচ্ছিল, তখন সাধারণ মানুষকে রক্ষা করার বদলে পুলিশ থানা ছেড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তিনি অবিলম্বে এনআইএ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

রবিবার মধ্যরাতের সেই তাণ্ডবের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ। রাতভর বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৫ জন অভিযুক্তের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।

পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন ভাটপাড়া পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলার গোপাল রাউথ। এ ছাড়াও কৌশিক দাস, সিকান্দার প্রসাদ এবং শ্যামদেব শাউ নামে আরও তিনজনকে পুলিশ হেপাজতে নেওয়া হয়েছে।

রবিবার রাতে জগদ্দল থানার ভেতরেই যেভাবে অর্জুন সিং ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি এবং পরবর্তীতে প্রার্থীর বাড়িতে বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে, তাতে এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে এই গ্রেপ্তারি এবং অর্জুন সিংয়ের বিস্ফোরক দাবি ঘিরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এলাকায় বাড়তি পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হলেও মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কাটছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *