কলকাতা- সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের নতুন শ্রমবিধি বা ‘নিউ লেবার কোড’ (New Labour Code) বাস্তবায়নের বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছেন।
এই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার খবরে চাকুরিজীবীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে কাজের সময়সীমা নিয়ে। সপ্তাহে কি এখন আগের চেয়ে বেশি কাজ করতে হবে? নাকি সপ্তাহে ৩ দিন ছুটি পাওয়া যাবে?
নতুন শ্রমনীতিতে ‘ম্যাক্সিমাম উইকলি ওয়ার্কিং আওয়ার্স’ বা সাপ্তাহিক কাজের সর্বোচ্চ সময়সীমা নিয়ে কী বলা হয়েছে, তা জেনে নিন।
নতুন শ্রমবিধির খসড়া অনুযায়ী, সপ্তাহে মোট কাজের ঘণ্টার ওপর কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।
সর্বোচ্চ সীমা: একজন কর্মচারীর জন্য সপ্তাহে কাজের সর্বোচ্চ সময়সীমা ৪৮ ঘণ্টাই রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, সপ্তাহে মোট ৪৮ ঘণ্টার বেশি সাধারণ ডিউটি করানো যাবে না। সাপ্তাহিক ৪৮ ঘণ্টা ঠিক থাকলেও, দৈনিক কাজের সময়সীমা বা শিফটের ক্ষেত্রে নমনীয়তা বা ফ্লেক্সিবিলিটি আনা হয়েছে। এখানেই ‘৪ দিন কাজ ও ৩ দিন ছুটি’র বিষয়টি উঠে আসছে।
১. ১২ ঘণ্টার শিফট ও ৩ দিন ছুটি: নতুন নিয়মে কোম্পানিগুলো চাইলে দৈনিক কাজের সময় ৮ বা ৯ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত করতে পারে।
যদি কোনো কর্মচারী দিনে ১২ ঘণ্টা কাজ করেন, তবে তাঁকে সপ্তাহে মাত্র ৪ দিন কাজ করতে হবে (১২ ঘণ্টা × ৪ দিন = ৪৮ ঘণ্টা)।
বিনিময়ে তিনি সপ্তাহে ৩ দিন সবেতন ছুটি (Paid Leave) পাবেন।
২. ১০ ঘণ্টার শিফট ও ৩ দিন ছুটি: যদি দৈনিক কাজের সময় ১০ ঘণ্টা করা হয়, তবে সপ্তাহে প্রায় ৫ দিন কাজ করতে হবে।
৩. ৮ ঘণ্টার শিফট ও ১ দিন ছুটি: পুরানো নিয়ম অনুযায়ী যদি কেউ দিনে ৮ ঘণ্টা কাজ করেন, তবে তাঁকে সপ্তাহে ৬ দিন কাজ করতে হবে এবং ১ দিন সাপ্তাহিক ছুটি পাবেন (৮ ঘণ্টা × ৬ দিন = ৪৮ ঘণ্টা)।
নতুন শ্রমবিধিতে ওভারটাইমের নিয়মও স্পষ্ট করা হয়েছে।
সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করলে বা দৈনিক নির্ধারিত শিফটের চেয়ে বেশিক্ষণ কাজ করলে, অতিরিক্ত সময়ের জন্য কর্মচারীকে দ্বিগুণ হারে ওভারটাইম পেমেন্ট দিতে হবে।
পূর্বে অনেক ক্ষেত্রে ওভারটাইমের হিসাব রাখা হতো না, কিন্তু নতুন নিয়মে কাজের সময়ের প্রতিটি মিনিটের হিসাব রাখা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, কোম্পানি চাইলেই জোর করে ১২ ঘণ্টার শিফট চাপিয়ে দিতে পারবে না। ১২ ঘণ্টা কাজের শিফট চালু করতে হলে কর্মচারীদের লিখিত সম্মতি প্রয়োজন হবে।
