কয়লা পাচার কাণ্ডে আই-প্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভিনেশ চান্ডেল গ্রেফতার, আপত্তিকর নথি উদ্ধার, দাবি ইডি-র

কলকাতা- কয়লা পাচার মামলায় এবার বড়সড় মোড়। রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাক (I-PAC)-এর অন্যতম ডিরেক্টর তথা সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভিনেশ চান্ডেলকে গ্রেপ্তার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

সোমবার দিল্লিতে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর পিএমএলএ আইনের আওতায় তাঁকে হেফাজতে নেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

ইডির দাবি, পশ্চিমবঙ্গের কয়লা পাচারের টাকা আই-প্যাকের মাধ্যমে বিভিন্ন খাতে প্রবাহিত হয়েছে। গত ২ এপ্রিল থেকেই এই মামলার জাল গুটিয়ে আনছিল কেন্দ্রীয় সংস্থাটি।

তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, গত কয়েকদিনে দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, বিজয়ওয়াড়া এবং রাঁচি মিলিয়ে আই-প্যাকের মোট ১১টি ঠিকানায় ম্যারাথন তল্লাশি চালানো হয়েছে। এই অভিযানে সংস্থার অপর এক ডিরেক্টর ঋষি রাজ সিং-এর বেঙ্গালুরুর বাসভবন ও দফতরেও হানা দেয় ইডি।

ইডির পেশ করা বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, তল্লাশিতে বিপুল পরিমাণ আপত্তিকর নথি ও তথ্যপ্রমাণ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে লেনদেনের নির্দিষ্ট যোগসূত্র মিলেছে। মানি লন্ডারিং বা অর্থ তছরুপের কাজে একাধিক ভুয়ো কোম্পানির সাহায্য নেওয়া হয়েছিল বলে সন্দেহ।

২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচন থেকে শুরু করে এরাজ্যের শাসক দলের একাধিক নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজি বা রণকৌশল তৈরির নেপথ্যে ছিল এই আই-প্যাক। বর্তমানে যখন বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন দোরগোড়ায়, সেই সময় আই-প্যাকের শীর্ষ কর্তার গ্রেপ্তারিতে স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর।

বিজেপির দাবি, কয়লা চুরির টাকা কীভাবে রাজনৈতিক প্রচারের কাজে লাগানো হয়েছে, তা এবার প্রকাশ্যে আসবে। অন্যদিকে, একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবেই দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল। ভিনেশ চান্ডেলকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করলে এই চক্রে আরও রাঘববোয়ালদের নাম সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *